1068
ফেসবুক Twitter ইনস্টাগ্রাম ইউটিউব
লক্ষণগুলো উপেক্ষা করবেন না: মেদান্তার চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ খাদ্যনালীর ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

লক্ষণগুলো উপেক্ষা করবেন না: মেদান্তার চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ খাদ্যনালীর ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

উত্তর-পূর্ব ভারত জুড়ে অন্ননালীর ক্যান্সার একটি প্রধান স্বাস্থ্য উদ্বেগ। তামাক ব্যবহার, সুপারি চিবানো এবং খাদ্যাভ্যাসের মতো জীবনযাত্রাগত কারণগুলি এই রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপে অবদান রেখেছে, বিশেষ করে নাগাল্যান্ডে। অনেক রোগী এখনও রোগটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর পরেই চিকিৎসা সহায়তা চান, কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলি সূক্ষ্ম এবং প্রায়শই অ্যাসিডিটি বা গলা জ্বালার মতো সাধারণ হজমের সমস্যা বলে ভুল করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা ২০২৬ সালে নিউজউইক কর্তৃক ভারতের সেরা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেদান্তা- দ্য মেডিসিটিবলা হয়েছে যে, গিলতে অসুবিধা, কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া, বুকে অস্বস্তি, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বমি, খাদ্যনালী থেকে খাবার উঠে আসা বা স্বরভঙ্গের মতো লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত নয়, বিশেষ করে যদি সেগুলো বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে। 

সময়মতো চিকিৎসা জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা রাখতে পারে, এই বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে, ডাঃ রাজেশ পুরী, ভাইস চেয়ারম্যান, ইন্টারভেনশনাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, মেদন্তা গুরুগ্রাম বললেন, খাদ্যনালীর ক্যান্সার এমন একটি ক্যান্সার, যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসার ফলাফল নাটকীয়ভাবে উন্নত হতে পারে। অনেক রোগী মনে করেন যে গিলতে অসুবিধা বা অ্যাসিডিটি সাময়িক এবং তাই চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। কিন্তু এই লক্ষণগুলো যদি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়, তবে এমন একটি পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব যখন রোগটি তখনও নিরাময়যোগ্য থাকে। আজ সত্যিকারের আশা রয়েছে, কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি হয়েছে।

ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে এবং ভারতেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিদ্যমান। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (ICMR)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে আনুমানিক ১৪ লক্ষ নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হয়েছিল।[1]এগুলোর মধ্যে, দেশে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো অন্ননালীর ক্যান্সার।[2]যার মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারত এই রোগের একটি প্রধান কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ডাঃ পুরি উল্লেখ করেছেন যে, খাদ্যনালীর ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার জন্য আপার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল এন্ডোস্কোপিই সবচেয়ে কার্যকর পরীক্ষা। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ডাক্তাররা খাদ্যনালীর ভেতরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সরাসরি দেখতে পারেন এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে বায়োপসি করতে পারেন। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিটি দ্রুত, নিরাপদ, এতে খুব কম কাটাছেঁড়া করতে হয় এবং ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এটি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

অন্ননালীর ক্যান্সারের সতর্কতামূলক লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে, ডাঃ হিতেশ পাঞ্চাল, সহযোগী পরামর্শদাতা, মেদান্ত গুরুগ্রামের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি তিনি উল্লেখ করেন যে, সময়মতো স্ক্রিনিং করলে বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে এবং আগেভাগে চিকিৎসার মাধ্যমে জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে। তিনি বলেন, এন্ডোস্কোপি জীবন বাঁচাতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। মানুষের স্ক্রিনিং নিয়ে ভয় পাওয়া উচিত নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের ফলে প্রায়শই সহজতর চিকিৎসা, দ্রুত আরোগ্য লাভ এবং দীর্ঘমেয়াদে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। আমরা চাই সমাজ এটা বুঝুক যে, ক্যান্সার মানেই সবসময় একটি নিরাশাজনক রোগ নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অনেক রোগীই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ডাঃ পাঞ্চাল জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনারও পরামর্শ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে তামাক ও সুপারি পরিহার করা এবং বেশি করে তাজা ফল ও শাকসবজি খাওয়া।

[1] https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2102729&reg=3&lang=2
[2] https://journals.lww.com/iamr/fulltext/2017/04010/esophageal_cancer_in_india__current_status_and.3.aspx

উপরে ফিরে যাও