মেডান্তার চিকিৎসকরা শিশুদের লিভারের রোগের নীরব বৃদ্ধি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণের ওপর জোর দিয়েছেন।
ডাক্তারদের এ ২০২৬ সালে নিউজউইক কর্তৃক ভারতের সেরা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেদান্তা – দ্য মেডিসিটিশিশুদের মধ্যে লিভারের রোগের—বিশেষ করে মেটাবলিক অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD), যা ফ্যাটি লিভার নামেও পরিচিত—ক্রমশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পরিবর্তিত জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কিত।
ডঃ বিসি রায় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ডাঃ নীলাম মোহন, সিনিয়র ডিরেক্টর, পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজি, মেদন্তা গুরুগ্রাম তিনি বলেন, জাঙ্ক ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতিরিক্ত ব্যবহার, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ, শারীরিক কার্যকলাপের অভাব এবং অনিয়মিত রুটিন শিশুদের স্থূলতার কারণ এবং ফ্যাটি লিভার, বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া ও পেডিয়াট্রিক প্যানক্রিয়াটাইটিসসহ লিভারের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়—যেগুলোকে প্রায়শই সাধারণ হজমের সমস্যা বলে ভুল নির্ণয় করা হয়, যার ফলে চিকিৎসায় বিলম্ব হয়। গত দশকে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশিরভাগ শিশুর কোনো উপসর্গ দেখা যায় না এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় ঘটনাক্রমে তাদের রোগ নির্ণয় হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে ১০-১৮% অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগছে এবং ৩৫-৪৫% স্থূল শিশুর এমএএসএলডি (MASLD) হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে শিশুদের ফ্যাটি লিভারের রোগের প্রকোপ বাড়ছে, যার কারণ হিসেবে দ্রুত নগরায়ন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়াকে দায়ী করা যেতে পারে। এর ফলে এখন অনেক শিশু স্থূলতায় না ভুগলেও, অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী হচ্ছে। ইন্ডিয়ান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (আইএপি)-এর জাতীয় সভাপতি ডঃ মোহন বলেছেন, এই অভ্যাসগুলো শুধু লিভারের স্বাস্থ্যেরই ক্ষতি করে না, বরং অল্প বয়সে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য বিপাকীয় জটিলতার কারণও হয়ে দাঁড়ায়।
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে কারণ শিশুদের লিভারের অনেক সমস্যা নীরবে সিরোসিস বা শেষ পর্যায়ের লিভার ডিজিজে পরিণত হয়। ক্রমাগত ক্লান্তি, কারণ ছাড়া ওজন বৃদ্ধি বা পেটে অস্বস্তির মতো সাধারণ লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। সময়মতো স্ক্রিনিং গুরুতর লিভারের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে এবং পরবর্তী জীবনে জটিল চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা কমাতে পারে।
ডাঃ নীলাম মোহন, সিনিয়র ডিরেক্টর, পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজি, মেদন্তা গুরুগ্রাম তিনি জোর দিয়ে বলেন যে প্রতিরোধে অভিভাবকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, কারণ শিশুদের অভ্যাস মূলত বাড়িতেই গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অপরিহার্য — ঠিক যেমন একটি ওয়াইফাই ডিভাইস সংযোগের জন্য রাউটারের উপর নির্ভর করে, তেমনি শিশুরাও ভালোভাবে বেড়ে ওঠার জন্য তাদের বাড়ির পরিবেশের উপর নির্ভর করে। এর অর্থ হলো, বাবা-মায়েরা সক্রিয়ভাবে তাদের সন্তানদের খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি করবেন, যেমন—জাঙ্ক ফুড, পরিশোধিত ময়দা ও চিনি কমানো, প্রতিদিন ৪৫-৬০ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপে উৎসাহিত করা, স্ক্রিন টাইম সীমিত করা এবং নিয়মিত রুটিন ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা। বাড়িতে ছোট ছোট কিন্তু ধারাবাহিক পরিবর্তন লিভারের রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে। এছাড়াও, স্কুলগুলোকে তাদের ক্যান্টিনে জাঙ্ক ফুড বা প্রক্রিয়াজাত চিনিযুক্ত খাবার রাখা থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা প্রয়োজন।
তিনি শিশুদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যাপক ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা খুবই সাধারণ এবং ক্ষতিকর। এটি যকৃতের কার্যক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।