জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদরোগজনিত ৯০ শতাংশ মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব, জোর দিলেন মেদান্তার চিকিৎসকরা।
ভারতে হৃদরোগ অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য উদ্বেগের বিষয়, যা পরিবর্তিত জীবনধারা, ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাবে ক্রমশ কম বয়সী মানুষদের আক্রান্ত করছে।
বিশেষজ্ঞরা গুরুগ্রাম-ভিত্তিক মেদান্তা- দ্য মেডিসিটি, ২০২৬ সালে নিউজউইক কর্তৃক ভারতের সেরা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।তারা উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে অধিকাংশ কর্মজীবী পেশাজীবীরই অলস জীবনযাপন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিয়মিত ঘুম এবং ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ রয়েছে। তবে, তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, সাধারণ জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সময়োচিত সচেতনতার মাধ্যমে এখনও বিপুল সংখ্যক রোগ ও মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত ডাঃ প্রবীণ চন্দ্র, চেয়ারম্যান, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি, মেদন্তা গুরুগ্রাম তিনি উল্লেখ করেন যে, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান পরিহারের মতো স্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন অভ্যাস গ্রহণের মাধ্যমে প্রায় ৯০% হৃদরোগজনিত মৃত্যু এড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, হৃদরোগ এখন আর শুধু বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আমরা এখন কম বয়সী রোগীদেরও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং মানসিক চাপজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত হতে দেখছি। আশার কথা হলো, এই ঝুঁকিগুলোর বেশিরভাগই পরিবর্তনযোগ্য। জীবনযাত্রায় ছোট কিন্তু ধারাবাহিক কিছু পরিবর্তন গুরুতর হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।
ডঃ চন্দ্র ব্যাখ্যা করেছেন যে, হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো শারীরিক কার্যকলাপের অভাব, এবং বাইরের কার্যকলাপ কমে যাওয়ায় সব বয়সের মানুষের শারীরিক সক্ষমতার স্তর হ্রাস পাচ্ছে।
হৃদস্বাস্থ্যকে একটি দৈনন্দিন অঙ্গীকার হিসেবে দেখার জন্য মানুষকে আহ্বান জানানো এবং প্রতিরোধই যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিকার, সে বিষয়ে জোর দেওয়া। ডাঃ সি মানপা ফোম, সহযোগী পরামর্শদাতা, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি, মেদন্তা গুরুগ্রাম বললেন, অনেকেই মনে করেন সুস্থ থাকার জন্য কঠোর ব্যায়ামের প্রয়োজন, কিন্তু সাধারণ কিছু কাজকর্মও অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সপ্তাহে অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন ৪৫ মিনিট হাঁটা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানো হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতে অনেক সাহায্য করতে পারে।
চিকিৎসকরা বলেছেন যে, তামাক ব্যবহার এবং ধূমপান হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। ধূমপান পরিহার করা, প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা এবং ফল ও শাকসবজি বেশি করে খাওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে হৃদস্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটানো সম্ভব।
একই সাথে, তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিশ্বমানের উন্নত চিকিৎসা ও হৃদরোগের চিকিৎসা প্রদান করে। ডঃ চন্দ্র বলেন, পঁচিশ বছর আগে, অনেকেই উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতেন। আজ ভারতে বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং উচ্চ প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিজয় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পরের চিকিৎসা নয়, বরং রোগটি হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচাতে পারে।
চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, বৃহত্তর সচেতনতা, সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং স্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন অভ্যাস হৃদরোগের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে এবং মানুষকে দীর্ঘ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে সাহায্য করতে পারে। তাঁরা বলেছেন যে, আজকের স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।